কত ভরি স্বর্ণ থাকলে যাকাত দিতে হয়: ইসলামে স্বর্ণের নিসাব কত

কত ভরি স্বর্ণ থাকলে যাকাত দিতে হয় তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী স্বর্ণের নিসাব, কত বছর পর যাকাত ফরজ হয় এবং কী হারে যাকাত দিতে হবে—এসব বিষয় সহজ ভাষায় বিস্তারিত জানুন।

May 7, 2026 - 13:01
 0
কত ভরি স্বর্ণ থাকলে যাকাত দিতে হয়: ইসলামে স্বর্ণের নিসাব কত
ছবি: সংগৃহীত

কত ভরি স্বর্ণ থাকলে যাকাত দিতে হয়—এ বিষয়টি নিয়ে অনেক মুসলিমের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা যায়। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে এবং সেই সম্পদ এক বছর পর্যন্ত নিজের কাছে থাকলে যাকাত আদায় করা ফরজ হয়।

ইসলামে স্বর্ণের যাকাতের নিসাব কত

হাদিস অনুযায়ী স্বর্ণের যাকাতের নিসাব হলো ২০ দীনার বা প্রায় ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ। বাংলাদেশি পরিমাপে এটি প্রায় সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণের সমান ধরা হয়।

অর্থাৎ কারও কাছে যদি প্রায় সাড়ে ৭ ভরি বা তার বেশি স্বর্ণ থাকে এবং তা পূর্ণ এক হিজরি বছর তার মালিকানায় থাকে, তাহলে তার ওপর যাকাত ফরজ হবে।

কত শতাংশ যাকাত দিতে হয়

স্বর্ণের ওপর মোট সম্পদের ২.৫ শতাংশ হারে যাকাত আদায় করতে হয়। ইসলামী বিধান অনুযায়ী এক-চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ২.৫% যাকাত নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদাহরণ

যদি কারও কাছে ১০ ভরি স্বর্ণ থাকে, তাহলে সেই স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করে তার ২.৫ শতাংশ যাকাত দিতে হবে।

কোন স্বর্ণের ওপর যাকাত আসে

ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত—উভয় ধরনের স্বর্ণ নিয়েই আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে অনেক ইসলামি স্কলার ও ফতোয়া অনুযায়ী, নিসাব পরিমাণ স্বর্ণ থাকলে অলংকার হলেও যাকাত আদায় করা উত্তম ও নিরাপদ।

নগদ টাকা ও স্বর্ণ একসঙ্গে হিসাব হবে কি

কেবল স্বর্ণই নয়, নগদ টাকা, রূপা এবং ব্যবসায়িক সম্পদ মিলিয়েও যাকাতের হিসাব করা হয়। যদি সব সম্পদের সম্মিলিত মূল্য নিসাব পরিমাণে পৌঁছে যায় এবং এক বছর অতিক্রম করে, তাহলে যাকাত ফরজ হবে।

যাকাত হিসাব করার সময় যেসব বিষয় জানা জরুরি

  • স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করতে হবে
  • হিজরি বছরের হিসাব ধরতে হবে
  • মোট সম্পদের ওপর ২.৫% যাকাত দিতে হবে
  • দেনা থাকলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী তা সমন্বয় করা যায়

কত ভরি স্বর্ণ থাকলে যাকাত দিতে হয়

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সাধারণভাবে সাড়ে ৭ ভরি বা প্রায় ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ থাকলে এবং তা এক বছর পর্যন্ত মালিকানায় থাকলে যাকাত ফরজ হয়। তবে যাকাতের সঠিক হিসাব ও বিধান জানতে বিশ্বস্ত আলেম বা ইসলামিক স্কলারের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।