প্লেনে উঠলেই ফোন এরোপ্লেন মোডে রাখতে বলা হয় কেন?

প্লেনে উঠলে কেন ফোন এরোপ্লেন মোডে রাখতে হয়—নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত কারণগুলো সহজভাবে জানুন।

May 4, 2026 - 22:03
May 4, 2026 - 22:31
 0
প্লেনে উঠলেই ফোন এরোপ্লেন মোডে রাখতে বলা হয় কেন?
ছবি: সংগৃহীত

বিমানে ভ্রমণের সময় মোবাইল ফোন ‘এরোপ্লেন মোডে’ রাখার নির্দেশনা প্রায় সবারই জানা। তবে এই নিয়মের পেছনে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

বিমান যখন আকাশের উচ্চতায় উড়ে, তখন পাইলটদের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে রেডিও সিগন্যালের ওপর। এই সিগন্যাল নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিচালিত হয়, যাতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় থাকে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মোবাইল ফোন একসঙ্গে নেটওয়ার্ক খুঁজতে শুরু করলে বা সিগন্যাল পাঠালে তা আশপাশের ফ্রিকোয়েন্সিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। যদিও আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেছে, তবুও সম্ভাব্য সমস্যা এড়াতে এই নিয়ম বজায় রাখা হয়।

এ ছাড়া নেটওয়ার্কের ওপর অতিরিক্ত চাপও একটি বড় কারণ। বিমান যখন দ্রুতগতিতে উচ্চতায় চলতে থাকে, তখন মোবাইল ফোন একাধিক টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে। এতে অনেকগুলো ফোন একসঙ্গে নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে চাইলে স্থলভাগের টাওয়ারগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়, যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে পারে।

এরোপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের সব ধরনের সেলুলার সিগন্যাল, কল ও ডাটা সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফোন আর কোনো টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে না এবং কোনো রেডিও সিগন্যালও পাঠায় না। তবে বর্তমানে অনেক বিমানে আলাদা সিস্টেমে পরিচালিত ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকে, যা নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সতর্কতা। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে সামান্য ঝুঁকিও এড়িয়ে চলা হয়। তাই ফোনকে এরোপ্লেন মোডে রাখা একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যা সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সমস্যা ও যোগাযোগ বিঘ্ন এড়াতে সহায়তা করে।