কিডনি রোগী কি কি খেতে পারবে না: যেসব খাবারে বাড়তে পারে ঝুঁকি
কিডনি রোগী কি কি খেতে পারবে না তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। কিডনির সমস্যা হলে কোন খাবার কম খেতে হবে, কোন ফল ও শাকসবজি এড়িয়ে চলতে হবে এবং প্রোটিন গ্রহণের সঠিক নিয়ম কী—এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানুন সহজ ভাষায়।
কিডনি রোগী কি কি খেতে পারবে না—এ প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকে। বর্তমানে কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ব্যথার ওষুধ সেবন এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনি সমস্যার অন্যতম কারণ।
যখন কারও কিডনির কার্যকারিতা দীর্ঘ সময় ধরে কমতে থাকে, তখন তাকে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বলা হয়। এ অবস্থায় খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি রোগী কি কি খেতে পারবে না
কিডনি রোগীদের জন্য সব খাবার সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে কিছু খাবার অতিরিক্ত খেলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করা জরুরি।
অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে
অনেকেই মনে করেন কিডনি রোগ হলে পুরোপুরি প্রোটিন বন্ধ করে দিতে হবে। তবে বাস্তবে শরীরের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিন প্রয়োজন। একেবারে কমিয়ে দিলে অপুষ্টি, দুর্বলতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যেতে পারে।
তবে অতিরিক্ত গরু বা খাসির মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পরিবর্তে পরিমাণমতো মাছ ও মুরগির মাংস খাওয়া তুলনামূলক ভালো। সাধারণভাবে দিনে একটি ডিম, অল্প পরিমাণ মাছ বা মাংস এবং সীমিত ডাল খাওয়া যেতে পারে।
পটাশিয়াম বেশি থাকা খাবারে সতর্কতা
কিডনি রোগী কি কি খেতে পারবে না—এই তালিকায় পটাশিয়ামসমৃদ্ধ কিছু খাবারও থাকে। বিশেষ করে যাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি বা কিডনির জিএফআর কম, তাদের এসব খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।
যেসব খাবারে পটাশিয়াম বেশি
- ডাবের পানি
- কলা
- খেজুর
- শুকনো ফল
- আলু
- টমেটো
- শসা
- পালংশাক
- ফলের জুস
এসব খাবার অতিরিক্ত খেলে শরীরে পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
কোন ফল তুলনামূলক নিরাপদ
সব ফল কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিছু ফলে পটাশিয়াম তুলনামূলক কম থাকে, তাই পরিমাণমতো খাওয়া যায়।
যেসব ফল সীমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে
- আপেল
- পেয়ারা
- আঙুর
- নাশপাতি
- জাম
- তরমুজ
তবে যেকোনো ফল খাওয়ার আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শাকসবজি রান্নার সঠিক নিয়ম
কিডনি রোগীদের শাকসবজি রান্নার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শাকসবজি আগে সেদ্ধ করে সেই পানি ফেলে দিয়ে রান্না করলে পটাশিয়ামের পরিমাণ কিছুটা কমে যায়। এতে কিডনির ওপর চাপও কম পড়ে।
লবণ কম খাওয়া কেন জরুরি
অতিরিক্ত লবণ কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বেশি লবণ খেলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, যা কিডনির ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই রান্নায় কম লবণ ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি নিয়ে সতর্কতা
কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ভারসাম্যেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করানো জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়।
কিডনি রোগী কি কি খেতে পারবে না – শেষ কথা
কিডনি রোগী কি কি খেতে পারবে না তা নির্ভর করে রোগের ধরন, কিডনির কার্যক্ষমতা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর। তাই নিজের মতো খাদ্যতালিকা তৈরি না করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।