এল নিনো: বিশ্বের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা
এল নিনো আনুষ্ঠানিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
এল নিনো বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াবিদদের নজরের কেন্দ্রে রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে একটি শক্তিশালী এল নিনো আনুষ্ঠানিকভাবে সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসন (NOAA)। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
এল নিনো কী?
এল নিনো হলো নিরক্ষরেখার কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
কেন উদ্বেগ বাড়ছে?
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান এল নিনো ১৯৯৭ সালের রেকর্ড গড়া এল নিনোর সমকক্ষ বা তার চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে। ১৯৯৭ সালের এল নিনোর সময় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় এবং দাবানলের মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কী প্রভাব পড়তে পারে?
শক্তিশালী এল নিনোর ফলে কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে, আবার কিছু এলাকায় দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী খরা। এছাড়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে প্রভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্ক
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবের সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও তীব্র হতে পারে। ফলে বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এল নিনো
এল নিনো শুধু একটি সমুদ্রবিজ্ঞানভিত্তিক ঘটনা নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া, কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আবহাওয়াবিদরা এর গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
Source: বিজ্ঞানপ্রিয়।

Dhums